ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে হাইকোর্টের রুল

জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না তা জানতে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট। এ পরীক্ষার ফল ‘পজিটিভ’ হলে বা ডোপ টেস্টে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান রেখে এ সংক্রান্ত আইন, বিধি ও নির্দেশিকা সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।


এক রিট মামলার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।


এ বিষয়ে গত ১৬ অগাস্ট বিবাদীদের আইনি নোটিস পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি। নোটিসের জবাব না পেয়ে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে রিট আবেদন করেন তিনি।


আবেদনে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন, বিধি ও নির্দেশিকা প্রণয়ন বা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন সব নির্বাচন স্থগিত করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছিল। আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আদালত শুধু রুল দিয়েছেন।


তিনি বলেন, জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান, তাদের স্বীকৃত মেডিকেল ও ল্যাবরেটরি থেকে ডোপ টেস্ট করে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নেওয়ার বিধান নির্বাচনি আইন ও বিধিমালায় যুক্ত করার জন্য রিট মামলাটি করা হয়েছে।


আইনজীবী অনি বলেন, আমার মেইন জিনিসই হচ্ছে যে—স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচনে যেসব প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়, তাদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হোক। একটা ক্লজ থাকুক।


জনপ্রতিনিধিদের সুস্থ মানসিক অবস্থা থাকা জরুরির মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি একজন ট্যাক্সপেয়ার, আমাকে রিপ্রেজেন্ট করতেছে একজন এমপি, আমার সমস্যা দেখতেছে একজন চেয়ারম্যান, সমস্যা দেখতেছে একজন মেম্বার। তিনি নিজেই যদি একটা প্রবলেমেটিক মানুষ হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি কীভাবে আমার সমস্যার সমাধান করবেন? সাউন্ড মাইন্ডের মানুষ আমাদের রিপ্রেজেন্ট করুক।


দেশে মাদক ‘মহামারী’ আকার ধারণ করেছে মন্তব্য করে ইসরাত জাহান অনি বলেন, একজন করদাতা হিসেবে তিনি চান, তাকে প্রতিনিধিত্বকারী এমপি, চেয়ারম্যান বা মেম্বার সুস্থ মানসিকতার মানুষ হোক।


আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে সংবিধান ও আইন মেনে চলা প্রতিটি নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীর কর্তব্য। সরকারি চাকরিজীবী এবং চালকদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হলেও আইনপ্রণেতা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এর আওতার বাইরে রাখা সংবিধানের এ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দেশ ও মানুষের সেবার জন্য জনপ্রতিনিধিদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা প্রয়োজন। মাদকাসক্ত কোনো ব্যক্তি জনপ্রতিনিধিত্বের জন্য প্রয়োজনীয় নৈতিকতা ও যোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে পারেন না, বলা হয়েছে রিট আবেদনে।


আইনজীবী অনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো জনপ্রতিনিধি মাদক গ্রহণে জড়িত হলে বিদ্যমান আইনেই তার শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page

↑